Header Ads

Himalaya, Haridwar the ancient city, Rishikesh, | চলো হরিদ্বার




চলো হিমালয়

সৌরভ কাঞ্জিলাল



টলি বাংলা ওয়েব ডেস্ক
ভারত কোন দেশ নয়। নানা ধর্ম বর্ণ ভাষা সংস্কৃতির মেলবন্ধনে যেন একটা আস্ত মহাদেশ। এর ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। বিস্ময়কর এখানকার বৈচিত্র্য। সমুদ্র, পাহাড়, সমতল, মালভূমি ও মরুভূমির সমাহার। পৃথিবীর দীর্ঘতম ও উচ্চতম হিমালয় পর্বতের দুই প্রান্তে চীন ও ভারতের সভ্যতায় এই গিরিরাজের ভূমিকা অসীম। শত সহস্র বছর ধরে কত যে পরিব্রাজক হিমালয়ের পথে ও কন্দরে ভ্রমন করেছেন ! খুঁজে বেড়িয়েছেন মানব সমাজের কত অকথিত অনাবিষ্কৃত সত্যকে।

বাঙালি অতীশ দীপঙ্কর,  প্রবোধ সান্যাল বা মহাদার্শনিক রাহুল সাংকৃত্যায়ন তাদের মধ্যে অন্যতম। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরাও ভারত থেকে ছুটে গেছেন চীন, তিব্বত, জাপান বা উত্তর পূর্ব এশিয়ায় এই পথ দিয়ে।
ক্লক টাওয়ার - হর কি পওরি, হরিদ্বার
হিমালয়ে প্রবেশের দুটি প্রধান পথ হলো -  গাড়োয়াল হিমালয় ও কুমায়ুন হিমালয়। আজ আমরা গাড়োয়াল হিমালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বার হরিদ্বারের কথা বলব। কুম্ভ, দুন ও উপাসনা এক্সপ্রেসে সরাসরি কলকাতার দিক থেকে এখানে আসা যায়। অন্য প্রবেশপথ হল - কোট দ্বার। হরিদ্বার হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান হলেও অন্য নানান সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে বসবাস করেন এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গঙ্গার রূপ দেখতে আসেন। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গার প্রবাহ যাত্রা শুরু করে হরিদ্বার হয়ে উত্তর প্রদেশ, বিহার, বাংলার বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে বিশ্বের এই দীর্ঘতম নদীটি।

হরিদ্বারে সারা বছর নানা উৎসব লেগেই থাকে। হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ হিন্দু,  বৌদ্ধ, সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে সারা পৃথিবী থেকে অন্যান্য ভ্রমণার্থীরাও এখানে আসেন। এখান থেকেই হৃষীকেশ হয়ে হিমালয়ের গহনে প্রবেশ করা যায়। হরিদ্বারে প্রচুর বাস সার্ভিস আছে ৪০০-৫০০ কিমি দূরবর্তী কেদারনাথ, বদ্রিনাথে যাওয়ার জন্য। অন্যদিকে দেরাদুন থেকে যাওয়া যায় মুসৌরি,ধনৌলটি
সৌন্দর্য্যে সমৃ্দ্ধ উত্তরাখন্ডের ঋষিকেশ

হরিদ্বারের অন্যতম আকর্ষণ হর কি পউড়ির ঘাট। এখানকার সন্ধ্যারতি কোনোদিন পুরনো হয় না। মনসা পাহাড় ও চন্ডী পাহাড়ের চূড়া থেকে হরিদ্বারের দৃশ্য অবর্ণনীয়। এই শহরে ছোট-বড় নানা রকম হোটেল ও ধর্মশালা রয়েছে। শহর থেকে ৪ কিমি দূরে রংবাহারি কাঁচের কারুকার্যশোভিত পবনধাম রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভীমগোদা জলাশয়, গুরুকুল কাংরি বিশ্ববিদ্যালয়। 
অটোরিকশা নিয়ে ৪ কিমি দূরে কনখল ঘুরে আসা যেতে পারে। এই পৌরাণিক তীর্থভূমি কনখলে কত যে মন্দির ও আশ্রম আছে তার হিসেব মেলা ভার। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল দক্ষ প্রজাপতি মন্দির। পুরাণ কাহিনী মতে এখানে নাকি দক্ষরাজা যজ্ঞ করেছিলেন। সেই যজ্ঞে সতীর দেহত্যাগ ঘটে। কনখলের গঙ্গাতীরে আনন্দময়ী মাতার আশ্রম আছে।
আমাদের কোলকাতার গঙ্গার ঘোলাটে দূষিত জল দেখে দেখে যারা ক্লান্ত ও বিরক্ত তারা যদি হরিদ্বার বা হৃষীকেশের গঙ্গার তীরে আশ্রয় নেন তাহলে অনুভব করবেন এক অপার্থীব ঐশ্বরিক আনন্দ। এখানকার গঙ্গার জল যেমন ঠাণ্ডা তেমনি কাঁচের মত স্বচ্ছ। অনেকে এই জল বোতল বন্দী করে নিয়ে যান।

হরিদ্বার যাত্রীদের অনেকেই ট্রেন-বাসে করে হৃষীকেশে থেকে ঘুরে আসেন। সেখানেও থাকার বেশকিছু সুব্যবস্থা আছে। হৃষীকেশের রাম ঝোলা ও লক্ষণ ঝোলা দর্শনীয় স্থান। এই হৃষীকেশ থেকেই অনেকে হিমালয়ের অন্যান্য জায়গায় পরিক্রমা করতে বেরিয়ে পড়েন।

হরিদ্বার যাবার উপায়
কলকাতা থেকে হরিদ্বার যাবার বেশ কিছু ট্রেন রয়েছে। কলকাতা - শিয়ালদা - হাওড়া - টার্মিনাল থেকে পাঞ্জাব, দিল্লী,  দেরাদুনগামী  বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনে যাওয়া যায়। এইসব ট্রেনের মধ্যে কুম্ভ এক্সপ্রেস, দুন এক্সপ্রেস, উপাসনা এক্সপ্রেস,অমৃতসর মেল, হিমগিরি এক্সপ্রেস উল্লেখযোগ্য।

লেখক - সৌরভ কাঞ্জিলাল

Credit                                                                                                   
Photo : Own & Google
For the all News Update Please follow our Website www.tollybangla.com
Subscribe our Youtube Channel Tolly Bangla Youtube
Follow Us on Twitter Tolly Bangla twitter
Like our Facebook Page Tolly Bangla Facebook Page



( প্রিয় পাঠক / পাঠিকা , পোস্টটিতে  লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার করুন এবং নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পেজে লাইক করুন )

No comments

Powered by Blogger.