Header Ads

মুখোমুখি সঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়



মুখোমুখি সঙ্গীত শিল্পী অর্ঘ্য বন্দ্যোপাধ্যায়
সৌরভ কাঞ্জিলাল



টলি বাংলা ওয়েব ডেস্ক
১) ছোট ছবি লাল হলুদ নীল থেকে শুরু করে আমার বোবা ঠোঁটে - সবমিলিয়ে জার্নি টা কেমন ?

শুরুটা আসলে “লাল হলুদ নীল” থেকে নয়, ততদিনে আমার প্রথম মিউজিক ভিডিও “গানটা তোকে দিলাম” মুক্তি পেয়ে গেছে। তবে “লাল হলুদ নীল” অনেক পরিপাটি কাজ হয়েছিল বলে সম্ভবত অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছেছিল।

সেই ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮। জার্নিটা তো সংক্ষেপে বোঝানো সম্ভব নয়। এর মাঝে আমি দুটো শহর বদলে এখন পুনের বাসিন্দা। হ্যাঁ, এটা বলতেই পারি যে নতুন কিছু করার ইচ্ছে আমার তখনও ছিল, এখনও আছে - এবং তার চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত। “আমার বোবা ঠোঁটে” হয়তো তারই ফসল।



২) গানের হাতেখড়ি কার কাছে ?

হাতেখড়ি মায়ের কাছেই। মা “রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়” থেকে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রিয় সঙ্গীত নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন। তাই আমার ৩-৪ বছর বয়েস থেকেই বাড়িতে গানবাজনার চর্চা ছিল। এরপর শ্রীমতী অসীমা ভট্টাচার্জীর কাছে ৫ বছর বয়েস থেকে classical শিখতে শুরু করি। তবে প্রথম গানটা বুঝতে শেখান পণ্ডিত কুমার রায়। তারপর পণ্ডিত তুশার দত্তের কাছেও শিখেছি।

৩) রিসেন্ট হিট আমার বোবা ঠোঁট - Youtube Trending - কতটা Expectation ছিল ?

দেখো, trending শব্দটা শুধুমাত্র কিছু মুহূর্ত আর views এর ব্যাপার। YouTube এ আজ অমুক ভিডিও trending তো কাল তমুক। তবে যেটা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে নতুন বাংলা গান, বেসিক বাংলা গান, যেটা নামকরা কোনো ব্যান্ডের না, কোনো ছায়াছবির না, সেটাও মানুষ চালিয়ে শুনছে, এবং বারবার শুনছে। নিশ্চয়ই ভালো লাগছে বলেই data pack খরচা করে শুনছে। এটাই আমাদের গোটা টিমের উদ্দেশ্য ছিল, প্রতিবারের মতই। কোনো না কোনো কারনে আমার আগের গানগুলো এতটা ভালবাসা পায়নি। তাই তেমন উচ্চাশা ছিলনা।তার একটা বড় কৃতিত্ব Folk Studio Bangla-র। ওদের audience ভীষণ dedicated and serious।

) ডাক্তারমোক্তারইঞ্জিনিয়ার অনেক কিছু হওয়ার ছিল - গান গাইতে এলেন কেন ?

আমি পেশায় ইঞ্জিনিয়ার। কলকাতায় পড়াশোনা করে তারপর চেন্নাই, তারপর পুনেতে চলে আসি। গান ছেড়েই দিয়েছিলাম একটা সময়। তবে গানই আমাকে ছাড়লনা। ঠিক টেনে নিয়ে এলো। এখন গান যতটুকু করি, ভালোবেসে, তবে সঙ্গে professionally-ও। নাহলে আমি জানি, এই ব্যস্ত lifestyle এর মধ্যে থেকে ঐটুকু সময়ও বার করে ওঠাও সম্ভব হবেনা. হ্যাঁ আরো হয়তো অনেক কিছু করতে পারতাম, হতে পারতাম। ছবি তুলতাম, ছবি বানাতাম, music প্রোডাকশন করেছি, এডিটিং করতাম। কলকাতায় থাকাকালীন ইচ্ছে ছিল একটা প্রোডাকশন হাউস খোলার। তবে আমি দেখতে ভালোবাসি জীবন কোনদিকে নিয়ে যায়, যদি হওয়ার থাকে, হবেই।



৫) বলা হয় একজন শিল্পীর কাছে তার শিল্পকর্ম একটা দায় - এ বিষয়ে আপনার মতামত ?

দেখো মনের অবচেতনে যে একটা দায় থাকেনা তা নয়, তবে আমি দায়টাকে মাথায় রেখে কাজ করতে পারিনা। আমার কোনো কাজ ভালো লাগলে, মনে লাগলে তবেই করি। অর্থাৎ দায়ে যদি সত্যি থেকেই থাকে, তাহলে নিজের কাছে নিজের, অন্য কারো জন্য কিছুনা। তারা বরং ব্যাপারটা উপভোগ করুক।

৬) বাংলা গান কি নিজের নিজেস্বতা হারাচ্ছে ?

একদমই তা নয় কিন্তু। এটা কথার কথা - বাঙালি ভোলানো কথা। বাংলা গান এই মুহূর্তে তার সেরা সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কি বলো তো, এই নিয়ে মুখ খুললে আবার অনলাইন-এ লোকে troll করবে, অনেক কথা শোনাবে। আমরা ভুলে যাই সময় টা ২০১৮, শুধু মাত্র টিভি, রেডিও খুলে বাংলা গান খুঁজলে কিন্তু শ্রোতারাই ভুগবেন। কারণ ওখানে ভালো গান বাজানো হয়না। যা "চলতি" শুধু তাই বাজানো হয়। আরে বাবা, ওরাও তো ব্যবসা করবে, নতুন কিছু শোনানো ওদের জন্য একটা রিস্ক। এটা তো competition এর যুগ। অনলাইন যদি খোঁজো, দেখবে এমন এমন গান প্রকাশিত হয় যা টিভি, রেডিওতে বাজেইনা, অথচ মেলোডির দিক থেকে ৬০-৭০ এর দশক এর চাইতে অনেক ভালো। যেই যুগে প্রতিনিয়ত এতো ভালো ভালো কাজ হচ্ছে, সেই যুগে একটাই কষ্ট, বাঙালি এখনো টিভি,রেডিওর বাইরে গান শুনতে অভ্যস্ত হলোনা। 

৭) পরবর্তী প্রজেক্ট কি ?

- বেশ কয়েকটা প্ল্যান রয়েছে। আপাতত কয়েকটা অ্যালবাম এর কাজ চলছে, সুর করছি, লিখছি। এগুলো শেষ হলে কয়েকটা cover এবং single করার প্ল্যান রয়েছে। একটা চমক এবছর শেষের দিকে শ্রোতাদের দিতে পারবো আশা করছি।

৮) ছোট ছবি আর বানাবেন না ?

ছোট ছবি আমি যখন করতাম, তখন বাংলা তে চলটা একটু কম ছিল। গত ৪-৫ বছরে অনেক ভালো ভালো ইন্ডিপেন্ডেন্ট শর্টফিল্ম হচ্ছে। ভালো প্রোডিউসাররা যুক্ত হয়েছে। গল্প বলার ইচ্ছে আমার বরাবরের। গান, সিনেমা, গল্প… যে ফর্মেই হোক, আমি একজন গল্পকথক। কোনোদিন সুযোগ পেলে, টীম পেলে অবশ্যই করবো। তবে mediocre কাজ করে সময় নষ্ট করবো না।



৯) একটা ক্যামেরাএডিট সেটআপ আর মোবাইলে গান গাইবার অ্যাপ থাকলেই কি শিল্পী হওয়া যায় ?

- ওগুলো না থাকলেও শিল্পী হওয়া যায়। শিল্পী সত্তা থাকাটাই বড় ব্যাপার। সেটা কোনো technical ব্যাপারের ওপরে নির্ভরশীল নয়। সে গলা সাধাই হোক, বা নতুন টেকনোলজি শিখে নেয়া। এগুলো তো উপকরণ মাত্র। একজন সত্যিকারের শিল্পী নিজেকে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছবেন, শ্রোতাদের কে impact করবেন। এর জন্য তার কাছে কি আছে না আছে এটা যেমন বড় ব্যাপার নয়, তেমনি একটা ভালো গলা, বা একটা বেসিক রেকর্ডিং এর সরঞ্জাম থাকাটা ভালো বই খারাপও কিছু করবে না। তবে হ্যাঁ শিল্পীর নিজের চিন্তা ভাবনা না থাকলে ওগুলোর কোনো মূল্য নেই।

১০) যদি কোনদিন আপনার কোন গান কপি হয় এবং আপনি জানতে পারেন তখন কিরকম অনুভব করবেন ?

খুব খারাপ লাগবে। কেউ অনুপ্রাণিত হয়ে আমাকে জানিয়ে কিছু করলো, আমি অতো মনে ধরিনা, ওটাকে কপি বলা চলেনা। কিন্তু হুবহু টুকে নিলে, সেই চোরকে শিল্পী বলতে খুব গায়ে লাগে। অবশ্যই কেস করবো, আমি না করলেও, আমার গান যেই কোম্পানি বার করে, তাদের legal team action নেবে।

১১) বর্তমান বাংলা ব্যান্ডের গান নিয়ে কি মত আপনার ?

বাংলা ব্যান্ড কি আর বর্তমানের ? ছোট থেকে শুনতে শুনতে বড় হয়েছি। ক্লাসিকাল শেখার পাশাপাশি আমি তৎকালীন বাংলা ব্যান্ডের গানের বিশাল fan ছিলাম বলতে পারো। ক্যাকটাস, ফসিল্স, লক্ষীছাড়া বা মহিনের ঘোড়াগুলির গানে তখন পাগল। তাদের নিয়ে আর মতামত আমি কি দেবো। তারাই বরং আমার মতামত তৈরী করেছে। এখনো বেশ কিছু ভালো ব্যান্ড কলকাতায় আছে, ধুঁকছে, তবু আছে। YouTube এ শুনি। আমার কি মনে হয়, একটা গান যদি ভালো হয়, সেটা ব্যান্ড এর নাকি individual কোনো আর্টিস্ট এর, সেটা মাথায় থাকেনা। গানের জন্য সব, ব্যান্ড এর জন্য গান নয়।

১২) খোঁচা খোঁচা দাড়ির সঙ্গে বড় বড় চুল ঝাকিয়ে স্টেজ পারফর্মেন্স - বিষয়টা আপনি কিভাবে দেখেন ?

যদি ওরকমভাবে কেউ গজল বা ঠুমরি গায়ে, ব্যাপারটা একদমই রুচবেনা। তবে রক গানের লাইভ শো করতে গেলে এটা act এর একটা অংশ । এটা বাদ দিলে দেখবে, চিনি ছাড়া green tea মনে হচ্ছে। সেই ইমপ্যাক্টই করবে না। এবার কতটা extent অবধি চিনি মিশবে, আর কতটুকু green tea, সেইটা aesthetics এর প্রশ্ন, এবং সেখানেই একজন কত বড় রকস্টার তার বিচার হবে।

এবার তুমি জিগেশ করবে যে গানটা কি দেখার না শোনার জিনিশ। শোনার হলে সিডি কিনেই শুনুক মানুষ। আমার মনে হয়, মানুষ সিডির দাম দিয়ে টিকেট কেটে live শুনতে আসেন, সিডি-র থেকে একটু বেশি কিছু শোনার জন্য। আর রক music এর সঙ্গে স্টেজ performance এর সম্পর্কটা অনেকটা সেরকম যেমন বৈরাগীর সঙ্গে ভোরের, মুলতানের সঙ্গে দুপুরের বা দরবারির সঙ্গে মধ্যরাতের। না মিললেও শোনাই যায়, কিন্তু একসঙ্গে হলে তবেই মেজাজটা আসে।

১৩) বর্তমানে বাংলা ও হিন্দিতে আপনার প্রিয় গায়ক ও সঙ্গীত পরিচালক 

আমি প্রত্যেকের থেকে শুনি, শিখি। Directly music industry এর সঙ্গে যুক্ত না হয়েও আমি অনেকের অনেক কাছের, এইটাই আমার কাছে একটা বড় পাওয়া। কারু নাম বাদ দিয়ে গেলে পরে নিজেরই খারাপ লাগতে পারে। তাই ওভাবে বলবোনা।

১৪) বর্তমানে বাংলার সঙ্গে হিন্দি গানের জগতের পার্থক্য কতটা ?

একটাই। কাজের দাম। In terms of respect, exposure and payment। আমি এই সময় দাঁড়িয়েও কলকাতা থেকে কল পাই, স্বল্পমূল্যে কাজ করে দেয়ার জন্য - অনেকে শুনবে, অনেক exposure পাবে, এইসবের লোভ দেখায় মানুষ। আদৌ সেসব হয়না। যেই কাজের exposure বেশি, তার প্রমোশনেও অনেক টাকা খরচ করতে হয় প্রোডিউসারদের। সুতরাং বাজেট বেশিই থাকে। ওখানে নিজেকে বারবার প্রমান করার মতো অবস্থায় যেতে হয়। এদের মধ্যে অনেকের আবার সত্যি করে, নানান সমস্যা থাকে, তাই অনেক সময় মানা করা যায়না। একসময় করবো ভেবে কাজগুলোও পরে থাকে। আমারই এই অবস্থা, যারা নিত্যদিন এভাবেই কাজ করছে, তাদের motivation নিয়ে প্রশ্ন জাগে। হিন্দি গানের জগতে আবার অন্য ঝামেলা। যতই টাকা তুমি পাও, শিল্পী স্বাধীনতা অনেক কম। যেটা বলা হচ্ছে তেমন ভাবেই করে দিতে হবে, নিজের ভাবনা থাকলে সেগুলো পরবর্তীকালের জন্য তাকে তুলে রেখে দাও।

১৫) একজন নতুন সঙ্গীত শিল্পীর প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্রে ওয়েব মিডিয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ 

ওয়েব মিডিয়াই মনে হয় এযুগে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ। Reality Show এর নাম তো বড়োজোর ১-২ বছর। তারপর তো আবার নতুন মুখ, নতুন দরদাম। টিকে থাকতে গেলে ইন্টারনেটই ভরসা। যারা ফিল্ম music করেন ভারতবর্ষে, তারা সৌভাগ্যবান। যেহেতু গোটা গানের ইন্ডাস্ট্রিটাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একটা ছোট্ট অংশ হয়ে রয়ে গেছে তাই যারা নিজের গান, নিজের গলা শোনাতে চাইছেন, তাদের ভরসা ইন্টারনেটই। এরকম অনেক আর্টিস্ট আছেন বাংলায় যারা ইন্টারনেটে নাম করেছেন।

১৬) আপনার কাছে প্রেমে মানে কি ?

সেরেছে, এইটা সবচাইতে কঠিন প্রশ্ন। প্রেম আমার কাছে এক এক সময়, এক এক রকম। মানে ধরো জীবনটাই প্রেম, তার অনেক রং আর কি। আমি প্রেমিক মানুষ, বারবার প্রেমে পড়ি। ভালোবাসতে ভালোবাসি, নতুন সুর খুঁজে পাই।

১৭) ভুতে বিশ্বাস করেন ?

ভূতে বিশ্বাস করিনা, তবে ভূতের সিনেমায় করি। খুব ভালো লাগে, যদি ভালো করে বানানো হয়।

১৮) যদি আপনাকে গোটা একটা সপ্তাহ কোন নির্জন স্থানে রাখা হয় - নো মোবাইল - নো ইন্টারনেট-কি করবেন ?

ঠিক জানিনা। স্থানটা যদি সুন্দর হয়, তাহলে আশেপাশটা ঘুরে দেখবো। আর নাহলে ঘুমাবো, আমি ঘুমের সময় খুব কম পাই।



১৯) গান নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি ?

আমি ভবিষ্যতের কথা ভেবে চলিনা। যখন যেই কাজ মাথায় চেপে বসে, করে ফেলি। নিজের ৩-৪টা কাজ মাথায় আছে। নজরুল ইসলামের গান নিয়ে কিছু একটা করবো। মাঝে যদি আর কোনো interesting অফার আসে, করে ফেলবো।

২০) শেষ প্রশ্ন বিয়েটা কবে করছেন ?

এখুনি কিছু ভাবিনি।

Interviewed - Sourav Kanjilal

For the all News Update Please follow our Website www.tollybangla.com
Subscribe our Youtube Channel Tolly Bangla Youtube
Follow Us on Twitter Tolly Bangla twitter
Like our Facebook Page Tolly Bangla Facebook Page


( প্রিয় পাঠক / পাঠিকা , পোস্টটিতে  লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার করুন এবং নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পেজে লাইক করুন )

No comments

Powered by Blogger.