Header Ads

বাংলা সিনেমার গভীর অসুখ




বাংলা সিনেমার গভীর অসুখ



টলি বাংলা ওয়েব ডেস্ক
উত্তম কুমার চলে যাবার আগে বলতেন, মরে যাবার পরে তিনি ভুত হয়ে হাতে বন্দুক নিয়ে টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপোর সামনে দাঁড়িয়ে থাকবেন। চিত্রনাট্যের খাতা নিয়ে হবু পরিচালকদের দেখলে তাদের বুকে বন্দুক তাক করে পরীক্ষা নেবেন।

ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যারিস্টার হতে গেলে পরীক্ষা দিতে হয়। কেরানি বা অন্য যে কোন চাকরিতেও পরীক্ষা না দিয়ে ঢোকা যায় না। কিন্তু ক-অক্ষর গোমাংস রকবাজ বা জমি মাফিয়ারাও গৌরী সেনকে ফাঁসিয়ে শুটিং টালিগঞ্জে ঢুকে পড়ে। কয়েক বছর টালিগঞ্জে ঘোরাঘুরি করে পেঁচো মাতালও ভেবে ফেলে সে সিনেমা বানাতে পারে  -



উত্তম কুমার চলে যাবার পরে এইসব আগাছাদের জঙ্গলে বাংলা সিনেমার উঠান জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। এরা ভাবে পতিতার দালালি করা বা নেতাদের চামচাবাজি করার মতন সহজ কাজ সিনেমা বানানো। জনৈক সাহা বাবু বাংলাদেশ থেকে আনা হুন্ডির টাকায় একদিন একসঙ্গে তিনটে সিনেমার শুটিং করতেন। নিজে অবশ্য ফ্লোরে থাকতেন না। আর এক চৌধুরী বাবু বৌমা সিরিজের চটকায় বাংলা সিনেমাকে মজিয়ে গেছেন। তারপর শুরু হল অবাঙালি প্রযোজকদের দক্ষিণের বমি চাটার যুগ।


কম বাজেটে সাহা বাবুদের ছবি যদি বা সেল দিত, বমি চাটাদের কোটি কোটির ধান্দাবাজী পাবলিক তেমন খেলো না। চৌধুরী বাবুরা যদিও বাংলা মা-বোনেদের ধরতে পেরেছিলেন - পারিবারিক অনাচারের মোটা দাগের ছবি শোনাতেন - কিন্তু বমি চাটার দল ইয়াং জেনারেশানকে ধরতে গিয়ে সেক্স-ভায়লেন্সের চচ্চরিতে মদের চাট বানালো। বাংলায় শুরু হলো তখন অপরাজনীতি ও অপকালচারের প্রতিবিপ্লব। লুম্পেন সিনেমা বেকার যুবকদের লুম্পেন রাজনীতির দল ভারী করল। আজ এরাও মুখ থুবরে পড়েছে। তারপর শুরু হলো আতলামি মুখোশ পরাদের যুগ। শুরু হল সমান্তরাল সিনেমার নামে আর এক ভন্ডামি। বলা বাহুল্য এরা বাংলা সিনেমার গঙ্গাযাত্রা সমাপ্ত করে ছাড়লো।



নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন কয়েকজন প্রবীণ সিনেমা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষ কদিন আগে স্বচ্ছ পরিসংখ্যান দিয়ে বললেন, চৌধুরী বাবুদের নাটকে পয়সা লাগিয়ে অনেক খেত্রে লগ্নির টাকা ঘরে তুলতেন প্রযোজকরা। বমি চাটাদের পেছনে ছিল চিট ফান্ডের টাকা। এরা লাভা-লাভের তোয়াক্কা করে না। কালো টাকা সাদা করার বাহানা ছিল। পরিসংখ্যান বলছে গত ৩০ বছরে বক্স অফিসে ৯৫ টা ছবিও বাণিজ্য করেনি। আমার হাতে ৭০০ ছবির তালিকা দিয়ে প্রবীণ মানুষটি বললেন দেখুন এতে পরিষ্কার হিসেব রয়েছে, শতকরা ৯৫ টা ছবি কিভাবে মুখ থুবরে পড়েছে।



বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রির কোন উন্নতী হয় নি। পরিচালক থেকে সঙ্গে স্পটবয়দের ৯০% মাসে ঠিক মতো ৫-৭ হাজার টাকা জোটাতে পারে না। রাজনৈতিক মাফিয়াদের দাপটে টালিগঞ্জ পাড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে। প্রাথমিক চুক্তির পরেও শিল্পী ও কলাকুশলীদের ৭০% মজুরি অধিকাংশ প্রযোজক মেরে দেয়। শিল্প কর্মীদের হাঁড়ির হাল। ভারত সরকার যেহেতু সিনেমা শিল্পকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাক্ট আওতাধীনে আজও স্বীকৃতি দেয়নি, তাই এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মজুররা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রাইব্যুনালে তাদের অভিযোগ দায়ের করতে পারে না। প্রবীণ মানুষটি আরও বললেন, বাইরের চাকচিক্য দেখে বোঝার উপায় নেই ভেতরটা কত গভীর অন্ধকারে আচ্ছন্ন। এখানে শ্মশানের নৈরাজ্য চলছে। একটার পর একটা সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দর্শক প্রকৃত অর্থেই বাংলা ছবি বিমুখ।  প্রচার চলছে হাউসফুলের যা মহাধাপ্পা। যে কোন দিন সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা যাবে হাউসফুল বোর্ড টানানো হাউসের মধ্যে এক-দেড়শ দর্শক কোথাও বা ২৫-৫০ জন বসে আছে।    


বিশেষ প্রতিবেদন - ঝর্না চক্রবর্তী

Credit
Photo : Google
For the all News Update Please follow our Website www.tollybangla.com
Subscribe our Youtube Channel Tolly Bangla Youtube
Follow Us on Twitter Tolly Bangla twitter
Like our Facebook Page Tolly Bangla Facebook Page

( প্রিয় পাঠক / পাঠিকা , পোস্টটিতে  লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার করুন এবং নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পেজে লাইক করুন )

1 comment:

Powered by Blogger.