Header Ads

বামেদের ব্রিগেডে তারুণ্যের জমায়েতের গুরুত্ব


বামেদের ব্রিগেডে তারুণ্যের জমায়েতের গুরুত্ব

টলি বাংলা ওয়েব ডেস্ক
চারিদিকে বিস্ময়। ক্ষমতার দালাল আর ভুঁইফোড়রা বলছে - এটা মিরাকেল না মিরাক্কেল ! গত ৭-৮ বছর ধরে প্রচার চলছিল - বামেরা রক্তহীন। ক্ষয়িষ্ণু। দূরবীন দিয়েও দেখা যাচ্ছে না তাদের। কিন্তু সাম্প্রতিক বামেদের সমাবেশ অন্য কথা বলল। যারা ভোটে গোল্লা তারাই ব্রিগেডে লক্ষ্য কন্ঠে হাল্লা বোল। তাও আবার যৌবনের উত্তাপের তরঙ্গে ব্রিগেড কল্লোলিত হলো।



বেসরকারি টিভি চ্যানেলের সান্ধ্য আলোচনায় বেশ কিছু বাম বিরোধী আলোচকও ঢোক গিলছে। আর বেশ কিছু প্রভাতী দৈনিক তোতলাতে তোতলাতে লিখছে - না মানে বামেরা শেষ হয়নি। রাস্তায় তাদের দেখা যাচ্ছে। তবে ভোটে এঁটে উঠতে না পারলে ব্রিগেড ভরে কি লাভ ? আসলে ভোট ঘাটের আড়কাঠিগুলো ধাক্কা খেয়েছে। তৃণমূল, বিজেপির সমর্থকরাও খানিক আতঙ্কিত। তলে তলে তাহলে বামেরা সিদ কাটা শুরু করেছে। ভোটের তরজায় বামেরা অপ্রাসঙ্গিক, এমন উক্তি যাদের মুখ থেকে শোনা যায়, তারা অল্প হলেও আতঙ্কিত।

কিন্তু প্রশ্ন হলো তারুণ্যের ব্রিগেড কি চমক না বাস্তব ? প্রশ্ন হলো যৌবনের ঢল লাল পতাকার দুর্বার স্রোতে প্রবাহিত হয় কেন ?

সমীক্ষা বলছে বাংলায় আড়াই কোটি বেকার শহরে-নগরে ফুঁসছে। ৫৪ লক্ষ যুবক ১৫-২০ হাজার টাকার জন্য অন্য রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে। একাংশের মতে শিক্ষায় নৈরাজ্য সীমাহীন। লক্ষাধিক টাকা তোলা না দিলে শিক্ষার অধিকার পাওয়া যায় না। রাজ্য সরকারি চাকরির পরীক্ষা হয় না। যদি বা হয় রিক্রুট অধরা।



অরাজনৈতিক মন মহিনী প্রচারে একজনকে বিশ্বাস করেছিল মানুষ। বিশ্বাস এর পরিণাম বড় তিক্ত বলেই মনে করছে বহু মানুষ। বহু বিরোধীরা লুম্পেন বলে কটাক্ষ করে তাদের।

স্বপ্ন ভঙ্গ তাই দ্রুত ঘটে গেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। বাংলার সভ্যতা-সংস্কৃতি-মূল্যবোধ গুন্ডা কালচারে অবক্ষয়িত এমন অভিযোগ বিরোধীরা বরাবরই করে থাকে। আর তাইতো বাংলার বিক্ষুব্ধ যৌবন আর বরদাস্ত  করতে রাজি নয় বলেই, বেশ কিছু বাম মনস্কো ব্যক্তির মত। তারা প্রমাণ করতে চায় - চৈতন্য, রবীন্দ্রনাথ, বিবেকানন্দ, নজরুল, সুকান্তর বাংলা লুম্পেন রাজনীতির পায়ে মাথা নত করতে রাজি নয়।



তাছাড়া বাংলার রাজনীতিতে সেই বৌদ্ধযুগ, চৈতন্য যুগ থেকে বাম দিকে আবর্তিত। বাংলার যৌবনের রক্তে বাঘাযতীন, ক্ষুধিরাম, সুভাষ, মাস্টারদার কথা বলে। তাই এই ব্রিগেডের রং যৌবনের রঙে লাল বলছেন ব্রিগেডে আসো বহু মানুষ।


অপরদিকে আসন্ন ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে বামফ্রন্টের ব্রিগেড নিঃসন্দেহে বাম কর্মী সমর্থকদের চাঙ্গা করবে। গত লোকসভা নির্বাচনে দেখা গেছে তরুণ-তরুণীদের একটা বিরাট অংশের ভোট বিজেপি-র ভোট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছিল। এবং যার ডিভিডেন্ট বিজেপি পেয়েছে।  সে দিক থেকে বিশ্লেষণ করতে গেলে বামেদের এই ব্রিগেড সমাবেশে লাখো লাখো তারুণ্যের সমাগম সামনের নির্বাচনে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

Credit
Photo : Collected


বিশেষ প্রতিবেদন
বামেদের ব্রিগেডে তারুণ্যের জমায়েত কি নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে ?




( প্রিয় পাঠক / পাঠিকা , পোস্টটিতে  লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার করুন এবং নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পেজে লাইক করুন )

No comments

Powered by Blogger.