Header Ads

জীবনের শত্রুরা বামনদের প্রজেক্ট করে বলছে - এরাই তোমার আইডল


সেনাপতিকে হারিয়ে দিশেহারা বাংলা থিয়েটার
জীবনের শত্রুরা বামনদের প্রজেক্ট করে বলছে
"এরাই তোমার আইডল"

টলি বাংলা ওয়েব ডেস্ক
শেক্সপিয়র চর্চা আর ভারত শাসন একসঙ্গে হয় না - কার্লাইল।


ইন্দিরা গান্ধীর ক্যাবিনেটে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বা ভারতের রাষ্ট্রদূত হওয়ার সুযোগ জুটেছিল উৎপল দত্তর। চাইলে হলিউডে গিয়ে সিনেমা বানানো বা লন্ডনে বসে থিয়েটার সাম্রাজ্য শাসনের অফারও পেয়েছিলেন। ধনকুবেরদের মতো বিলাসী জীবনের হাতছানি প্রত্যাখ্যান করে মিনার্ভার দোতলায় থেকেছেন। লক্ষ লক্ষ টাকা লোন নিয়েছেন থিয়েটার করবার জন্য। শোধ ও করেছেন।



"কল্লোল" নাটক এর জন্য জেল খেটেছেন। "ব্যারিকেড", "দুঃস্বপ্নের নগরী"-র জন্য মার খেয়েছেন। নাটক ব্যান্ড হয়েছে। দিনের পর দিন আত্মগোপন করে থেকেছেন। ইন্দিরা ও সিদ্ধার্থ জামানায় ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড়িয়ে পথনাটক করেছেন।

কার্লাইল সাহেবের কথা তিনি মাঝে মাঝে ব্যবহার করতেন। কার্লাইল ব্রিটিশ উপনিবেশবাদী শাসকদের উদ্দেশ্যে যেটা বোঝাতে চেয়েছেন তা হলো - শ্রেণী শোষণ তথা ঘৃণ্য পুঁজিবাদী সরকার চালানো আর শেক্সপিয়র চর্চা ভন্ডদের চরিত্রের লক্ষণ। সম্রাট নীরো রোম নগরীতে আগুন দিয়ে বেহালা বাজাতেন।

শেক্সপিয়র সাহিত্য পুঁজিবাদের চোখে ত্রাস। ফলত একজন শেক্সপিরিয়ান কখনো আদর্শগত বা পেশাগত কারণে পুঁজিবাদের রক্ষাকর্তা হতে পারেন না।

উৎপল দত্ত সশস্ত্র, শ্রেণী-সংগ্রামে বিশ্বাস করতেন। তাঁর নাটকগুলো ভারতীয় শাসক ও বিশ্ব ধনতন্ত্রের ফ্যাসিস্ট নায়কদের মুখোশ উন্মোচন করেছে। যেমনটা শেক্সপিয়ারের নাটকে দেখা যায়। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ, যুদ্ধবাজ ও পুঁজিতন্ত্রের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথও তার নাটকে সোচ্চার ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের মত উৎপল দত্ত ড্রইংরুম ড্রামা বা ব্যক্তি মানুষের ক্ষুদ্র চাওয়া-পাওয়া, আশা-নিরাশার নাটকে বিশ্বাস করতেন না। থিয়েটারের বড় বড় সব মানুষদের পদচারণা তাঁর পছন্দ ছিল। ক্লাসিকে বিশ্বাস করতেন তিনি। মহাকাব্যে বামন চরিত্র পরিহার করা হয়।

"কল্লোল", "অঙ্গার", "টিনের তরোয়াল", "ব্যারিকেড", "মানুষের অধিকারে", "ফেরারী ফৌজ" নাটকগুলো আজকের বাংলা থিয়েটারে ভ্যানিশ করে দেয়া হচ্ছে বলেই থিয়েটারের তরুণ ছাত্ররা বামনে পরিণত হচ্ছে। তারা বুঝতে পারছে না যে চলতি সময়ে থিয়েটারের নামে যা চলছে সেটা বাংলা থিয়েটারের ঐতিহ্য নয়। অধঃপতন। থিয়েটারের মঞ্চে অভিনেতারা টিনের তরোয়াল হাতে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার আদর্শ বহন করে। এটাই 'নীল দর্পণ', 'নবান্ন', 'অচলায়তন', 'রক্তকরবী' 'মানুষের অধিকারে', 'কল্লোল' প্রমূখ বাংলা থিয়েটারের সংগ্রামী ঐতিহ্য।

ঋত্বিক ঘটক বলতেন - গাড়ি, বাড়ি, ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স আর বউ-এর গয়না তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে শিল্পী সৃষ্টিকর্মে ঝাঁপ দেয় না। স্কটিশ চার্চ কলেজের ইংরেজির অধ্যাপনা বৃত্তি ছেড়ে শিশির ভাদুড়ী মহাশয় থিয়েটার করতে এসেছিলেন। অনায়াসে তিনি বিধান রায়ের মন্ত্রিসভায় তাঁর স্থান পাকা করতে পারতেন। তিনিও পদ্মভূষণ পরিত্যাগ করে একটা থিয়েটার হল দাবি করেছিলেন।



আজকের তরুণ প্রজন্ম ধারণা করতে পারবে না উৎপল দত্ত কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। হলে একটা টিকিটও অবিকৃত থাকত না। মুক্তমঞ্চের বাইরে ৫-১০ হাজার দর্শক নাটক দেখত। মফস্বলের থিয়েটারের ছাত্র রাতে বাড়ি ফিরতে না পেরে হাওড়া, শিয়ালদহ স্টেশনে থেকে যেত। "কল্লোল" নাটক দেখতে প্রকৃত অর্থে গোটা ভারতবর্ষ এসেছিল। শত শত রজনী অভিনীত হয়েছে তার নাটকগুলো। দল নিয়ে কয়েকবার ইউরোপ ভ্রমণও করেছেন।


তিনি বলতেন, থিয়েটার কর্মীদের ইন্টেলেকচুয়াল জয়েন্ট হতে হবে। ঐতিহাসিক বস্তুবাদের তত্ত্ব জানতে হবে। বাজ পাখির মতো বুক হতে হবে। কেরানি মানসিকতা তিনি ঘৃণা করতেন। নিজেকে বলতেন প্রোপাগান্ডিস্ট। চারণ কবি মুকুন্দ দাসের মতো বিপ্লবের প্রচারক ছিলেন তিনি। শ্রেণী নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন না তিনি।

বাম সরকার বিডন স্ট্রিটের নাম উৎপল দত্ত সরণি করতে চেয়েছিল। মিনার্ভার নামও উৎপল দত্তের নামে রাখতে প্রস্তাব হয়েছিল। বর্তমান সরকার এসব প্রত্যাখ্যান করেছে। উৎপল দত্ত ফাউন্ডেশন বা তার স্মৃতি রক্ষার জন্য বর্তমানে থিয়েটার কর্মীদের ভূমিকা লজ্জাজনক।

রবি ঘোষ বলতেন, আমার শিক্ষক উৎপল দত্ত ভারতের ব্রেখট।


আজকের দুঃসময়ে উৎপল দত্তকে বড় প্রয়োজন ছিল। বাংলা থিয়েটার সেনাপতিকে হারিয়ে দিশেহারা। ছন্নছাড়া। জীবনের শত্রুরা তাই প্রবল উৎসাহে বামনদের প্রজেক্ট করে বলছে - এরাই তোমার আইডল।

প্রতিবেদন : সুব্রত কাঞ্জিলাল

Credit
Photo : Google

For the all News Update Please follow our Website www.tollybangla.com
Subscribe our Youtube Channel Tolly Bangla Youtube
Follow Us on Twitter Tolly Bangla twitter
Like our Facebook Page Tolly Bangla Facebook Page


( প্রিয় পাঠক / পাঠিকা , পোস্টটিতে  লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার করুন এবং নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পেজে লাইক করুন )

No comments

Powered by Blogger.