Header Ads

ভয়ংকর দিন ঘনিয়ে আসছে সিনেমা শিল্পে - আতঙ্কিত অভিনেতা সৌমাল্য



ভয়ংকর দিন ঘনিয়ে আসছে সিনেমা শিল্পে -
আতঙ্কিত অভিনেতা সৌমাল্য

টলি বাংলা ওয়েব ডেস্ক
সারাবিশ্ব জুরে চলছে করোনার মহামারী। গোটা বিশ্ব কার্যত থমকে। প্রগতি থমকে। বন্ধ হয়ে আছে কলকারখানা, অফিস, স্কুল, শপিংমল। আর তার সাথেই থমকে আছে বিনোদন জগৎ। যার জেরেই অনিশ্চিত হয়ে পরেছে এই দুনিয়ার সাথে যুক্ত অনেক মানুষেরই ভবিষ্যৎ। তাদেরই মধ্যে একজন হলেন অভিনেতা সৌমাল্য দত্ত যিনি এই সময়ে কার্যত গৃহবন্দি। তারই গলায় শোনা গেল আক্ষেপ হতাশার সুর।



সৌমাল্য দত্ত’র কথায় - লকডাউন কবে উঠে আবার কবে সবকিছু স্বাভাবিক হবে তা জানা নেই, কিন্তু লকডাউন উঠলেও সবকিছু আগের মতো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে অনেকটা সময় লাগবে যার খেসারৎ গুনবে মূলত বিনোদন জগৎ। কারন বিনোদন মানুষের অপরিহার্যতা নয়, বরং শখ। মানুষের হাতে এখন টাকা নেই, যেটুকু সামান্য থাকবে তা দিয়ে প্রথমে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসা খাতে খরচ করবে। মধ্যবিত্তদের জীবনে বিলাসিতা অনেকটাই কমে যাবে। আর বাংলা সিনেমার মূল দর্শকই হলো মধ্যবিত্তরা। বাংলার উচ্চবিত্ত সমাজের মূলভাগই অবাঙালী, তারা আগেও কোনোদিনই “ভূতের  ভবিষ্যৎ” দেখেনি আজও “দ্বিতীয় পুরুষ”ও দেখেননি। তারা মাল্টিপ্লেক্সে গিয়ে বলিউড বা হলিউডের ছবিই দেখে। তাই তাদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ থাকলেও তাতে বাঙলা সিনেমার কিছু লাভের লাভ হবেনা। তারপরও, এখনই সাধারণ মধ্যবিত্তরা আতংকে সিনেমা হলে ভিড় করবেনা, গেলেও হাই-বাজেটের বহু প্রতীক্ষিত হিন্দী, ইংরেজী ছবিকে প্রথমে প্রাধান্য দিয়ে তারপর কিছু বিগ বাজেট বাংলা ছবিই দেখতে যাবে। সেটা হলমালিকরাও জানে, তাই তারা ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছোট বাজেটের ছবি গুলোকে এই মুহূর্তে পাত্তাই দেবে না। এরফলে সেই ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্যারালাল ছবি গুলোর স্যাটেলাইট রাইটও বিক্রী হবেনা, শেষমেষ জলের দরে কোন ওয়েব প্ল্যাটফর্মে ছেড়ে দিতে হবে।



সবমিলিয়ে সমস্যায় পরবে সেই ছবির সাথে যুক্ত শিল্পীরাও। বাংলা ছবি, সিরিয়াল, ওয়েবের বাজেট কমাতেই হবে। শিল্পী কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক কমাতে হবে, তা নাহলে ব্যবসায় লাভ হবেনা। কিন্তু এটাও ঠিক যে বাংলায় কোনওদিনই বলিউড বা দক্ষিণের ইন্ডাস্ট্রির মতোন কেউ কখনত্ত পারিশ্রমিক পায়নি, মুম্বাই বা হায়দ্রাবাদের একজন পাসিং জুনিয়র আর্টিস্ট যা পারিশ্রমিক পান তা বাংলার একজন ভালো টকি আর্টিস্টও পান কিনা সন্দেহ। যার মূল কারন মূলত উক্ত রাজ্যের অর্থনীতি। তারপরও যদি আবার বাজেট কমানো হয় তাহলে যে সকল শিল্পীরা তলার শ্রেণীতে রয়েছেন তাদের অবস্হা আরো শোচনীয় হবে। সেখেত্রে বাজেট কমলেও কলাকুশলীদের পারিশ্রমিকের বিষয়টা নির্মাতাদের বিশেষভাবে মাথায় রাখতে হবে। মোটা পারিশ্রমিক পাওয়া হাই প্রোফাইল শিল্পীর পারিশ্রমিক কিছুটা কমলে যতটা না ক্ষতি হবে - তার থেকে অনেক বেশি ক্ষতি হবে ডেইলি ৫০০ টাকা পাওয়া কলাকুশলীর পারিশ্রমিক কাটা গেলে। এছারাও নির্দিষ্ট সময়ে শিল্পী-কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক না দেওয়া টালিগঞ্জে নতুন নয়। একই সঙ্গে কিছু ঠগ দালাল যারা অনেক ক্ষেত্রেই জুনিয়ার আর্টিস্টদের পারিশ্রমিক থেকে কমিশন দাবী করে অথবা পারিশ্রমিক দিতে অস্বীকার করে, এই ঘটনা যাতে লকডাউন পরবর্তী সময়ে না ঘটে সেই দিকেও কড়া নজর রাখা জরুরি।



এছাড়াও সর্বোপরি গোটা ইন্ডাস্ট্রীর বাজেট কমে গেলে বাংলার তথাকথিত বানিজ্যিক ছবির গ্ল্যামারও কমে যাবে। কারন কিছু নিম্ন মেধাসম্পন্ন, যন্ত্রনির্ভর, টেকনিক সর্বস্ব ফিলিম ডিরেক্টরদের হাটে হাঁড়ি ভেঙে যাবে। তাদের নির্মিত কপি পেস্ট ছবিগুলোকে তখন বলিউড বা দক্ষিণী ছবির থেকে আরো নিম্নমানসম্পন্ন করে দেবে। তাই আমাদের এখন ছবির বিষয়বস্তুর উপর জোর দিতে হবে। এছারা বাংলা ছবির দর্শক আরোই বাংলা ছবির থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, কারন এখন গ্লোবালাইজেশনের যুগ, ইন্টারনেটের দয়ায় পাশের বাড়ির ছেলেটিও ইন্টারন্যশনল কাজ দেখে, তার বয়ে গেছে সাউথের কপি পেস্ট ছবি হলে গিয়ে টিকিত কেটে দেখতে। তাই সবমিলিয়েই এখন বাংলা ছবির জগৎ গভীর সংকটের মুখে।

সাক্ষাৎকার নিয়ছেন - সৌরভ কাঞ্জিলাল

Credit
Photo : Own

For the all News Update Please follow our Website www.tollybangla.com
Subscribe our Youtube Channel Tolly Bangla Youtube
Follow Us on Twitter Tolly Bangla twitter
Like our Facebook Page Tolly Bangla Facebook Page



( প্রিয় পাঠক / পাঠিকা , পোস্টটিতে  লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার করুন এবং নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পেজে লাইক করুন )

No comments

Powered by Blogger.