Header Ads

টলিউড-বলিউডের মাথায় হাত -


টলিউড-বলিউডের মাথায় হাত




টলি বাংলা ওয়েব ডেস্ক
সূত্র বলছে যে বলিউডের প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা লকডাউন হয়ে গেছে। অর্থাৎ শুটিং আটকে যাওয়া ছবি শেষ হয়ে মুক্তি না পাওয়া এমনকি পোস্ট প্রোডাকশনে অনেক ছবি আটকে যাওয়া ইত্যাদি নানাভাবে লিউডের মাথায় হাত পড়েছে।



এটা বলছি সিনেমা শিল্পের কথা। তার বাইরে রয়েছে হিন্দি সিরিয়ালের জগত। সেখানেও একই রকম দুর্দশা চলছে। সেট বানিয়ে দুমাস ধরে লক্ষ লক্ষ টাকা খয়রাতি দিতে হচ্ছে।

টলিউডের অবস্থা আরও শোচনীয়। এমনিতে এখানে বহু বছর ধরে নৈরাজ্য চলছে। ডজন ডজন সিনেমা তৈরি হয় তার ৯০% মুক্তি পায় না। যেসব ছবি মুক্তি পায় সেগুলো ব্যবসা করতে পারে না।



বাংলা সিরিয়াল গুলো যদি বা পয়সার মুখ দেখে এখানেও গ্রহণ লেগেছে। প্রযোজকরা কয়েকবছর ধরে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের টাকা বাকি রেখে দিয়েছে।




সিনেমা শিল্পে মূলত কালোটাকার খেলা চলে। সেখানে কখনো দাউদের টাকা, হাজী মাস্তানের টাকা, আরব কান্ট্রির টাকা অবাধে খেলা করে। চিটফান্ডের টাকাও লগ্নি হয়ে থাকে। বাংলায় গত ১০-১২ বছর ধরে রোজভ্যালি, সারদার টাকা অবাধে বিচরণ করেছে। ওইসব টাকা যারা দিয়েছে তারা মুনাফা করার জন্য আসেনি। নানারকম ধান্দা চলছিল। রাজনৈতিক ধান্দা সবার উপরে কার্যকরী ছিল। বাম সরকারকে হঠানোর জন্য সিনেমা শিল্পে কয়েকশো কোটি টাকা ঢালা হয়ে ছিল।

টালিগঞ্জে কান পাতলে শোনা যেত একটা বাংলা ছবি নাকি কোটি কোটি টাকা খরচা করে তৈরি হচ্ছে। ছবির প্রচারেও কোটি কোটি টাকা খরচা করা হতো। অথচ ক্রমশ বাংলা ছবির বাজার সংকুচিত হতে হতে হাতে গোনা কয়েকটা সিনেমা হল দেখা যাচ্ছিল। প্রায় কোন ছবি বাজেটের অর্ধাংশ তুলতে পারত না। যারা ভালো ছবি সৃষ্টি করার জন্য খুব কষ্ট করে কাজ করত তাদেরকে ব্যঙ্গ করা হতো।



নায়ক নায়িকাদের পারিশ্রমিক আকাশছোঁয়া হয়ে পড়েছিল। কয়েকজন পরিচালক ছবি বাজেটের ১০-১৫% শতাংশ আগে থেকেই পকেটস্থ করত। অযোগ্য লোকের ভিড়ে বাংলা সিনেমার ঐতিহ্য অনেকদিন আগে হারিয়ে গিয়েছে। বোম্বাই, চেন্নাই ইত্যাদি সিনেমা শিল্পে যে ধরনের ব্যবসায়িক সততা শৃঙ্খলা দেখা যায় তার ১% এখানে দেখা যেত না। কে এক মেহেতা বাংলা সিনেমা শিল্পের মাথায় বসে ছড়ি ঘোরাতে ঘোরাতে শেষ পর্যন্ত জেলে গিয়ে বসে আছে।




আজকাল পত্রিকার রবিবার সংখ্যায় একবার চলচ্চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত বাংলা সিনেমার ন্যাক্কারজনক অবস্থাটা বর্ণনা করে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছিলেন। অংক কষে তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন যে বাংলা ছবি যেগুলো কোটি কোটি টাকা খরচা করে তোলা হয় সেগুলো কিভাবে মুখ থুবরে পড়ে। বরং একেবারে কম বাজেটের ভালো ছবি যারা কষ্ট করে নির্মাণ করেন সেই ছবিগুলো মোটের ওপর টাকা ফিরিয়ে আনতে পারে।



এখন কথা হল বলিউডে যে বিপুল অর্থ লগ্নি হয়ে বসে আছে এই দুই-তিন মাসে সেই অর্থের সুদ কত? আমাদের ছোট মাথায় সেই অংকটা ধরবে না! দেশের অন্যান্য শিল্পেও লক্ষ্য-কোটি টাকা লকডাউন হয়ে আছে! সরকারগুলো ব্ল্যাক আউট হয়ে পড়েছে! অর্থনীতিবিদরা বলছেন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি মানুষের চাকরি চলে যাবে! কোটি কোটি মানুষ সম্পুর্ণভাবে নিঃশেষ হয়ে যাবে! মন্দার ঘূর্ণিঝড়ে তলিয়ে যাবে যাবতীয় বাণিজ্য-তরুণী! ইতিমধ্যে মিডিয়া ব্যবসায়ে বিপুল মন্দার কালোমেঘ আচ্ছন্ন করেছে! ১০-১২ হাজার সাংবাদিক, ক্যামেরাম্যান ও অন্যান্য কর্মী ছাঁটাই হওয়া শুরু হয়েছে !

এমত অবস্থায় বলিউডের যেসব ছবি অসমাপ্ত থেকে গেছে অর্থাৎ মাঝপথে শুটিং আটকে গেছে সেগুলোর অধিকাংশ আর কখনো সামনের দিকে এগোতে পারবে না। যেসব ছবি মুক্তি পাবার জন্য বসে আছে তারাও কিভাবে সেই সব ছবি মুক্তি ঘটাবে সেখানেও বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন এসে গেছে। অনেক স্টুডিও বন্ধ হয়ে যাবে।

টলিউডের অবস্থা আরো শোচনীয়। ইতিমধ্যে কেউ কেউ ভাবতে শুরু করেছে যে এই শিল্পে বেঁচে থাকতে গেলে মাটির কাছাকাছি নেমে আসতে হবে। নায়ক-নায়িকাদের বায়নাক্কা সামলানো যাবে না। ছবির টেকনিক্যাল দিকের বিপুল খরচা বহন করা যাবে না। পাঁচ, দশ লাখ টাকায় ছবি বানিয়ে চলে আসতে হবে ওয়েব মিডিয়ায়।

আমার পরিচিত এক প্রবীণ ক্যামেরাম্যান কদিন আগে তার সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তিনি গত ১৫ বছর ধরে টালিগঞ্জ এর ধার কাজ দিয়ে হাটেন না। কারন এখনকার লোকজনদের সঙ্গে তার পোষায় না। হাসতে হাসতে বললেন - এবার তুমি দেখতে পাবে অত নায়ক-নায়িকা-খলনায়ক-পরিচালক তারা গাড়ি বাড়ি বিক্রি করে উধাও হয়ে যাচ্ছে! সিরিয়াল তৈরি হবে না! কারণ বিজ্ঞাপন পাবেনা! এক কথায় এই পেশায় ১০-১৫ হাজার পরিবার পথে বসবে !

সরকার সম্ভবত আগামী এক বছরের মধ্যে এই শিল্পকে সচল হতে দেবে না। তারপর তো আছে সোশ্যাল ডিসটেন্স, ফিজিকাল ডিসটেন্স। এমন হাস্যকর সরকারি নির্দেশ মেনে নায়ক-নায়িকারা অভিনয় করবেন কী করে ?



বলাবাহুল্য বাংলা থিয়েটার ও সোশ্যাল ডিসটেন্স এর ফতোয়াতে ডুবতে বসেছে। দর্শকরা ফিজিক্যাল ডিসটেন্স মেনে দর্শকাসনে বসতে পারবে। কিন্তু অভিনয় ? একেই বলে রাজনীতি চাল! ভাইরাস, ভাইরাস করে মিডিয়া আসর জমিয়ে দিল! মানুষ ভূতের ভয়ে ঘরে গিয়ে দরজা দিল! তারপর রাজনীতির ছক্কা-পাঞ্জাতে নৌকার চালে কিস্তিমাত !



ভূতের ভয় গ্রামের মানুষ পায়না। তাই তারা মুক্তবিহঙ্গ। শহরের মানুষের আরশোলা দেখে চোখ কপালে ওঠে। তবে ভয় ভাঙতে শুরু করেছে। বছর ঘুরতে না ঘুরতে মানুষ বুঝতে পারবে তাদের ঘরের শেষ সম্বলটুকু কিভাবে চুরি হয়ে গেল।

প্রতিবেদন ঃ সুব্রত কাঞ্জিলাল

Credit
Photo : Google

For the all News Update Please follow our Website www.tollybangla.com
Subscribe our Youtube Channel Tolly Bangla Youtube
Follow Us on Twitter Tolly Bangla twitter
Like our Facebook Page Tolly Bangla Facebook Page




( প্রিয় পাঠক / পাঠিকা , পোস্টটিতে  লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার করুন এবং নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পেজে লাইক করুন )

No comments

Powered by Blogger.