Header Ads

আতঙ্ক - সুব্রত কাঞ্জিলালের ছোট গল্প - Subrata Kanjilal Short Story - Atanka

ছোট গল্প
আতঙ্ক
সুব্রত কাঞ্জিলাল

ছোট গল্প - আতঙ্ক
ট্রেন-বাস-চলা শুরু হয়ে গেছে। অফিস-আদালত আরো আগে খুলে গেছে।
দিবাকর তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্ট্যান্ড থেকে অটোরিকশা রিজার্ভ করে সোদপুর স্টেশনে চলে এলো। সকাল তখন নটা বাজে। ওরা এখন গন্তব্য সল্টলেক। জিওলজিক্যাল সার্ভেতে ও চাকরি করে। অবসর নিতে এখনো বছর পাঁচেক বাকি আছে। যথা সময় অফিসে যাওয়া আর ফেরার ব্যাপারে দিবাকরের একটা রেকর্ড রয়েছে। যে কারণে ওর ওপর-ওয়ালার ওকে পছন্দ করে। অফিসের কাজে কোনদিন ও বিন্দুমাত্র ফাঁকি দেয় নি। ধর্মঘট, বাংলা বন্ধের সময় আগের দিন অফিসে এসে রাত কাটাতে চেষ্টা করত।


আজ স্টেশনে পা দিয়ে দিবাকর ঘাবড়ে গেল। এ তো সেই আগের চেহারা। শত শত অফিস যাত্রী ট্রেনের অপেক্ষায় প্লাটফর্মে গিজগিজ করছে। শোনা গেল সকাল থেকে প্রায় সব ট্রেন লেট চলছে। প্ল্যাটফর্মের একটা কোনায় নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দিবাকর দেখল মরণ ভয় উপেক্ষা করে পিলপিল করে হাজার হাজার পিপীলিকা যেন আগুনের দিকে ছুটছে।


দিবাকর দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। স্টেশনের বাইরে চলে এলো। সেখানেও চার মাস আগের পরিচিত জন অরণ্য। সামাজিক দুরত্বের ফতোয়া উড়িয়ে দিয়ে চলমান জীবন গতিময় হয়ে উঠেছে। দিবাকর প্রচন্ড ভয় পেয়ে গেলে। সে নিজের শরীরটাকে যতবার দূরত্বের সীমানায় আনবার চেষ্টা করল, ততোবারই সে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যাবার উপক্রম হলেও সামনে নিল। ঠিক তখনই ওর বসের ফোন এলো।


- দিবাকর আজ - আসছো তো ?
- হ্যাঁ স্যার বেরিয়ে পড়েছি !
- এনি হাও চলে এসো ! আর কামাই করা যাবে না ! ফাইলের পাহাড় জমে গেছে ! ৪-৫ দিনের মধ্যে ক্লিয়ার করতে হবে। ডে অর নাইট খাটতে হবে।

দিবাকর স্টেশনের বাইরে এসে একটা উবের ধরে চলে এলো বি.টি রোডে। সেখান থেকে একটা ট্যাক্সি নিয়ে অফিসের দিকে চলল।

রথতলা থেকে শুরু হলো যানজট। আগে যেমনটা হত। রাস্তার ডান দিকে মাল বোঝাই লরি গুলো যেন গত চার মাস ধরে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ডানলপ মোড় পেরোতে আড়াই ঘণ্টা পার হয়ে গেল। বাইরে ভ্যাপসা গরম। উবের এর মধ্যে এসি চলছে। তবুও দিবাকরের শরীরে ঘাম দিচ্ছিল। জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালে দিবাকরের মনে হচ্ছিল সে বিষধর সাপের দেশে চলে এসেছে। এক ছোবলে ভবের খেলা ঘুচে যাবে। মনটা ভারি হয়ে উঠছে। ঘন ঘন শ্বাস নিতে হচ্ছে। উবের এর মধ্যে যেন অক্সিজেন ফুরিয়ে যাচ্ছে। গলা শুকিয়ে উঠলো। বাইরের জনারণ্য বেপরোয়া।

পেট্রোল-ডিজেলের ধোঁয়ায় চারদিক অন্ধকার। দিবাকর ব্যাগ থেকে জলের বোতল বার করে গলায় ঢালল। ড্রাইভারকে নির্দেশ দিল ফিরে যেতে।

এরমধ্যে বসের ফোন আরো কয়েকবার পেয়েছে। বস জানতে চেয়েছে এখন সে কোথায় ঠিক কটার মধ্যে সে অফিসে ঢুকবে।

দিবাকর বাড়ির সামনে এসে গাড়িটা ছেড়ে দিল। অসুস্থ মানুষের মত টলতে থাকে তার পা। ওর স্ত্রী দরজা খুলে দিতেই বিস্ময় মাখা কন্ঠে বলল -
- কি হলো ফিরে এলে যে !


দিবাকর নিচের তলার একটা ঘরে ঢুকে গেল। এটা ওর স্টাডি রুম। এখানে একটা ছোটখাটো খাট রয়েছে। পড়তে পড়তে ঘুম পেলে ও ওই ছোট বিছানায় শুয়ে পড়ে।
কঙ্কনা এগিয়ে এসে বলল -
- কি হয়েছে ? শরীর খারাপ ? যাবার সমস্ত সুস্থ ছিলে ! হঠাৎ কি হলো ?

অফিসের পোশাক ছেড়ে ঘরে লুঙ্গি গেঞ্জি পড়ে দিবাকর শুয়ে পড়লে। কঙ্কনা ওর কাছে এসে কপালে হাত রাখতে গেলে ইশারায় তাকে সরিয়ে দিয়ে বলল -
- কাছে এসো না ! আজ থেকে আমি কোয়ারেন্টাইনে থাকব ! তুমি ডাক্তার সৌমককে খবর দাও।

কঙ্কণা ঘাবড়ে গেল স্বামীর কথা শুনে। চোখেমুখে আতঙ্ক ছায়া নেমে এলো। ঘর থেকে বেরিয়ে এসে কঙ্কণা তার বাবাকে ফোন করল।

- বাবা আমি ছেলেকে নিয়ে এক্ষুনি আসছি ! নানা এখন সব কথা বলা যাবে না ! ওখানে গিয়ে বলব !

দিবাকরের ফোন আবার রিং হচ্ছে।
- কি হলো দিবাকর ? তুমি অফিসে আসছো কিনা জানতে চাইছি !
- স্যার অফিসে বেরিয়ে ছিলাম ! বি.টি রোডে ভয়ঙ্কর ট্র্যাফিক জ্যাম ! কোটি কোটি ভাইরাস কিলবিল করছে ! যেন বিষধর সাপের রাজ্যে ঢুকে পড়েছি ! স্যার আমি বোধহয় আর কখনো অফিসে যেতে পারব না !

- হোয়াট ! কি বলছো তুমি ? আর ইউ ক্রেজি ?

মোবাইলটা অফ করে দিয়ে দিবাকর কঙ্কনাকে একবার ডাকলো। কঙ্কনা তখন তার ছেলেকে নিয়ে ট্যাক্সিতে উঠে পড়েছে। বেশ কয়েকদিনের জন্য যাওয়ার প্রস্তুতি করে ফেলেছে। বড় বড় কয়েকটা ট্রলি ব্যাগ ট্যাক্সি ডিকিতে উঁকি মারছে।
দিবাকর নিজের শরীরে হাত রেখে বোঝার চেষ্টা করল শরীরটা কতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

লেখক - সুব্রত কাঞ্জিলাল

[ আরও গল্প পড়তে Like করুন আমাদের ফেসবুক পেজ ]


Credit
Photo : Google

For the all News Update Please follow our Website www.tollybangla.com
Subscribe our Youtube Channel Tolly Bangla Youtube
Follow Us on Twitter Tolly Bangla twitter
Like our Facebook Page Tolly Bangla Facebook Page




( প্রিয় পাঠক / পাঠিকা , পোস্টটিতে  লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার করুন এবং নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের পেজে লাইক করুন )

No comments

Powered by Blogger.